বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
ভাড়া না দিলে মার! জনি বাসে নারীর অপমান!
অনলাইন ডেস্ক
‘বাড়তি ভাড়া না দেওয়ায়’ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে চলাচলকারী জনি পরিবহনের এক সহকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জনি পরিবহনের চারটি বাস আটক করেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়ার চৌঁড়হাস বাসস্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। বিকেল আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বাসগুলো আটক করেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী হাত, কপাল, মাথা ও নাকে আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক।
জানা যায়, ছাত্রীটি পরীক্ষার জন্য বগুড়া থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং কুষ্টিয়ার চৌঁড়হাস থেকে জনি পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। সেখানে ভাড়া নিয়ে হেলপারের সঙ্গে বচসা হয়। এক পর্যায়ে হেলপার ছাত্রীর ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তার গালে চড় মারেন, মাথায় একাধিক ঘুষি ও ধাক্কা দেন এবং হাতে আঘাত করেন। এরপর তার ভিডিও ধারণ করে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, “ফোন কেড়ে নিয়ে মেয়েটিকে থাপ্পড় দিয়েছেন, গায়ে হাত তুলেছেন। আশপাশে এত মানুষ ছিল, কেউ কিছু বলেনি।”
ছাত্রীটি বলেন, “পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলাম। রূপসা বাসে উঠতে চাইলেও হেলপাররা আমাকে জনি বাসে তুলে দেন বলে দ্রুত যাবে। তখন বলি, আমি ২৫ টাকা ভাড়া দেব। কিন্তু ৪০ টাকা চাইলে বলি, ভাড়া তো ২৫। তখন হেলপার বলেন, ‘তুমি কোথাকার অশিক্ষিত মেয়ে? শেখপাড়ার ভাড়া আমি জানি না?’ আমি স্বামীকে ফোন করতে গেলে ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর করেন। প্রতিবাদ করলেও কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। এক নারী বলেন, সব দোষ হেলপারের। কিন্তু কেউ শুনছিল না। আমাকে ওরা গালিগালাজ করে, ভিডিও তোলে ও জোর করে নামিয়ে দেয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. খুরশিদা জাহান জানান, “হাত, কপাল, মাথা ও নাকে আঘাত পেয়েছে। গুরুতর কিছু নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ও পর্যবেক্ষণে থাকতে বলেছি।”
শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, অভিযুক্ত হেলপারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণ, জনি বাসের ক্যাম্পাস চলাচল বাতিল ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ রুট পারমিট বাতিল করতে হবে।
লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. জুলফিকার হোসেন বলেন, “তোমরা যেভাবে চাও সেভাবেই হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. আব্দুর রউফ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েই ব্যবস্থা নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যে বাসগুলো আটকে রেখেছে, সেগুলো ক্যাম্পাসে নিরাপদে রাখা হয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
জনি পরিবহনের মালিক আনিস মিয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর থেকে শুনেছি। দুঃখজনক ঘটনা। বাস মালিক সমিতিকে জানিয়েছি। তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “মালিক ও বাস সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। আমরা সবাই মিলে আলোচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।”